হাল ফ্যাশনের চিত্রনাট্য, ভিএফএক্সের বাড়বাড়ন্ত আর দক্ষিণী সিনেমার ভিড়েও নব্বই দশকের ছেলেমেয়েরা নস্ট্যালজিয়ায় ভর করে বাঁচতে ভালোবাসে বললে অত্যুক্তি হবে না। কথায় আছে— পুরোনো চাল ভাতে বাড়ে। ঠিক সে রকমই নব্বই দশকের সিনেমাগুলো টেলিভিশনের পর্দায় যখন বিভিন্ন সময় ফিরে আসে, ঠিক তখনই দর্শকমনেও দোলা দেয়। সিক্যুয়েলের যুগে যদি সেই কাল্ট ক্লাসিক সিনেমাগুলোর সিক্যুয়াল তৈরি হয়। সেই সিনেপ্রেমী দর্শকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই 'তাল-২' সিনেমার সিক্যুয়াল নিয়ে ভাবছেন পরিচালক সুভাষ ঘাই?
১৯৯৯ সালে পরিচালক সুভাষ ঘাইয়ের নির্দেশনায় মুক্তি পেয়েছিল ব্লকবাস্টার মুভি ‘তাল’। অভিনেতা অক্ষয় খান্না, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও অনিল কাপুরের সম্পর্কের সমীকরণে মন মজেছিল দর্শকদের। দীর্ঘ ২৭ বছর পর তৈরি হবে ‘তাল টু’? সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে সুভাষ ঘাইয়ের একটিই প্রশ্ন— 'তাল টু' নিয়ে জল্পনা উসকে দিয়েছে। তিনি জানতে চেয়েছেন আজকের দিনে ‘তাল টু’ তৈরি সম্ভব কিনা?
সুভাষ ঘাই বলেন, ‘তালের চিত্রনাট্যে না ছিল কোনো ভিলেন, না কোনো যৌনতার ছোঁয়া কিংবা হিংসা। জেন জি এই গল্প কতটা পছন্দ করবে? আমরা স্ক্রিপ্ট প্রায় সম্পূর্ণ করে ফেলেছি। এখন মনে হচ্ছে— এটা হয়তো সঠিক সময় নয়।
সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের পোস্টে পরিচালক বোঝাতে চেয়েছেন— সেই সময় তাল সিনেমার চিত্রনাট্যে কোনো ভিলেন ছিল না, কোনো যৌনতার ছোঁয়াও ছিল না। আজকের জেন জি এই গল্প কতটা পছন্দ করবে সেটা নিয়েই সন্দিহান।
এ বর্ষীয়ান পরিচালক বলেন, আমি যে পোস্টটা শেয়ার করেছি, সেটা একটা প্রশ্ন মাত্র। এর উত্তর দর্শকরাই দেবেন। গত ১৫ বছর ধরে আমি একটা প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছি— আপনি আবার কবে তাল বানাবেন? সেই তালের এনার্জি এতটাই শক্তিশালী যে, জেন জিও আমাকে তালের সিক্যুয়াল বানানোর অনুরোধ করছে। কিন্তু বিষয়টি যতটা সহজ মনে হচ্ছে, বাস্তবে ততটাই কঠিন।
তিনি বলেন, যখন তাল তৈরি হয়েছিল,তখন অক্ষয় খান্না আর ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন দুজনেই ইন্ডাস্ট্রিতে সদ্য পা রেখেছিলেন। সেই কারণে পর্দায় তাদের প্রেমের গল্পের বুনোট দর্শকহৃদয় স্পর্শ করেছিল। একই রকমভাবে অনিল কাপুর তখন একজন অভিজ্ঞ অভিনেতা। ওর চরিত্রটিকেও সেভাবেই উপস্থাপন করা হয়েছিল। একটা ভালো স্ক্রিপ্ট লেখার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো— সঠিক কাস্টিং। আমার যে ছবিগুলো বক্স অফিসে খারাপ ব্যবসা করেছিল, তার প্রধান কারণ ছিল— ভুল কাস্টিং।


